GET ALL UPDATES VIA FACEBOOK JUST PRESS Like BUTTON


[X] CLOSE
+Get this at Tech Prévue
-->

•√•√•√•√•√ অসম্ভব প্রেম •√•√•√•√•√

0 Comments
-তিথি -বল -তোর হাতটা একটু ধরি ? -আচ্ছা মাঝে মাঝে এত নাকামো করিস কেন বলত ? এমন ভাবে বলছিস যেন আগে কখনও আমার হাত ধরিস নি ? -ধরেছি তো । কিন্তু এখন অন্যভাবে ধরতে চাচ্ছি । -কিরকম ? -বুঝিস না ? -নাহ তো । -আই লাভ ইউ । -তারপর ? -তারপর তো তুই বলবি । -আমি কি বলব ? -তুই বল , “আই লাভ ইউ” -আই হেইট ইউ । -সত্যিই ? -হুম । তোকে না বলেছি আমাকে এসব কথা বলবি না । আমি এসব পছন্দ করি না । -তোকে ছাড়া আমার জীবন অন্ধকার । -তো আমি কি করব ? -............... -ধেৎ মুড টাই অফ করে দিলি । .................. বলেই তিথি উঠে চলে গেল । আর পিছন থেকে রাহাদ তার পথের দিকে তাকিয়ে রইল । এক অসম্ভব অবাস্তব প্রেমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সে ............... ... . . তিথি আর রাহাদ ক্লাসমেট । ভার্সিটিতেই ওদের পরিচয় । রোল নাম্বার পরপর হওয়ায় বিভিন্ন প্রজেক্টের জন্য দুজনকে একসাথে কাজ করতে হয় । এর মাধ্যমেই ওরা ধীরে ধীরে অনেক ভাল বন্ধু হয়ে যায় । শুধুই বন্ধু ! এর বেশি কিছু নয় । কারণ দুজনেই জানে এর বেশি আর সম্ভব নয় ..................... . . কিন্তু আজ কয়েকদিন ধরে রাহাদ নিজেকে কোন ভাবেই বোঝাতে পারছে না । তার কাছে মনে হচ্ছে তার এই জীবনটাতে তিথি ছাড়া অন্য সবকিছুই বৃথা । ওর সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল এমন একজন জীবনসঙ্গী যে ওকে বুঝবে , ওর কষ্টগুলো শেয়ার করবে , ওর যখন মন খারাপ হবে তখন ওকে কাছে টেনে নেবে , ভালবাসবে , ওর মন ভাল করে দেবে । . আর এই সবগুলো গুণই তিথির মধ্যে আছে । তিথির হাসি , কান্না , রাগ , অভিমান সবকিছুই যেন রাহাদকে চম্বুকের মত আকর্ষণ করে । এই কয়েকবছরেই তিথির এত কাছাকাছি এসে গেছে যে , নিজের সবচেয়ে দামী বস্তু মনটা তিথিকে দিয়ে আজ নিজেকে সর্বস্বান্ত বানিয়ে ফেলেছে । কিন্তু রাহাদ নিজেও জানে , তিথি কখনই তার হবে না , তিথি যদি নিজ থেকেও এসে বলে , “রাহাদ , আমি তোকে ভালবাসি ” তারপরেও সম্ভব নয় । কারণ সমাজ-সংসার তাদের এই ভালবাসা কখনই মেনে নেবে না । তাদের দুজনের মাঝে যে ধর্ম নামক বিশাল এক আকাশচুম্বি দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে । এই দেয়াল পেড়িয়ে কখনই রাহাদ তিথির কাছে যেতে পারবে না............ . . বাসায় এসে সোফায় ধপ করে বসে পড়ল রাহাদ । তিথির সাথে গত পাঁচ ঘন্টায় কোন কথা হয় নি । বিকেলের ঘটনাটা নিয়ে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে রাহাদের । তাই অনেকটা অপরাধবোধ আর খানিকটা অভিমান থেকেই তিথিকে ফোন দেয় নি সে । অভিমান হল এই কারনে যে , সে জানে তিথিও তাকে মন থেকে অনেক ভালবাসে । কিন্তু মেয়ে তো !!!! বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না । নিজেকে নিজে কষ্ট দেবে কিন্তু মুখ ফুটে বলবে না , “ রাহাদ তুই ই আমার সব” . . আরো একটা ঘন্টা পেরিয়ে গেল , এখনও তিথির সাথে কথা হয়নি । ওকে কি সরি বলা দরকার ? ভাবতে ভাবতেই ফোনটা হাতে নিল রাহাদ । ঠিক সঙ্গে সঙ্গেই ভাইব্রেশন দিয়ে মোবাইলের স্ক্রিনটা আপনাআপনিই জ্বলে উঠল । স্ক্রিনের নাম টা দেখেই রাহাদের মনে অদ্ভুদ এক আনন্দের শিহরণ বয়ে গেল । তিথির ফোন । -হেলো -রাহাদ ? -হুম । বল । -কিরে কোন খোঁজ খবর নাই । -কিসের খোঁজ খবর । -রাগ করেছিস আমার উপর ? -কেন ? রাগ করব কেন ? -বিকেলে তোর সাথে ওরকম করলাম যে । -নাহ । ঠিকই করেছিস । আমি কিছু মনে করি নি । -তাই ? তাহলে ফোন দিস নি কেন ? -এমনি কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল না । তাই । -ও আচ্ছা । তাহলে তো আমিই ডিস্টার্ব করলাম । তাই না । -জানি না । -আচ্ছা তাহলে তোর জন্য একটা গুড নিউজ আছে । তোকে আর কখনও ডিস্টার্বড হতে হবে না । -কেন? -আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে । -ও আচ্ছা । কনগ্রচুলেশনস । -থ্যাংকস । -ওয়েলকাম । -শীঘ্রই দাওয়াত পেয়ে যাবি । -আচ্ছা । -এখন রাখি । অনেক কাজ । -আচ্ছা । গুড নাইট । -গুড নাইট । ............ কথাগুলো একনাগাড়ে বলতে তিথির অনেক কষ্ট হচ্ছিল । গলাটাতে যেন পাথর আঁটকে গিয়েছিল । ফোনটা রেখেই তাই সব কষ্ট চোখের অশ্রুর মধ্য দিয়ে বের করে দিতে চাইল । অনেক কাঁদল তিথি । কারণ সেও জানে এখন রাহাদও তার মতই কাঁদছে............ . দুই দিন পর ...... . আজ তিথিকে ছেলে পক্ষ থেকে দেখতে আসবে আর একই সাথে বিয়ের দিনও ঠিক করবে । রাহাদের সাথে ওই যে কথা হয়েছিল , আর কথা হয় নি । আর এই দুই দিনে তিথি আদৌ কিছু খেয়েছে না খায় নি সে নিজেও জানে না । যতই সময় যেতে থাকল ততই যেন ওর বুকের উপর একটা পাথর বড় হতে থাকল । বুকের বাম পাশটায় একটা চিনচিনে ব্যাথা করছে । চোখ গুলো কেমন যেন ধুয়ে আসছে । সাড়া শরীর যেন আড়ষ্ঠ হয়ে আসছে...... নাহ সে পারবে না । এই বিয়ে তার দাড়া সম্ভব নয় । কখনই না । দৌড়ে গিয়ে মায়ের কাছে বলল , “মা , আমি এই বিয়ে করতে পারব না ।” বলেই বেড়িয়ে পরল । মাকে কিছুই বলার সুযোগই দিল না............ . . রাহাদের বাসায় দরজা খুলল ওর আম্মু । তিথি ওনাকে দেখেই অনেকটা পাগলের মত বলল , -আন্টি রাহাদ কোথায় ? -আরে ওর কথা বল না । কি হয়েছে কে জানে , গত দুদিন কিছু খায়ই নি । সারক্ষন বেলকুনিতে বসে কি যেন ভাবে , আর কিছুক্ষণ পর পর দরজার দিকে যেন কারোর জন্য তাকিয়ে থাকে -কোথায় ও ? -ওর রুমেই , হয়ত বেলকুনিতে । ......কোনরকম অপেক্ষা না করেই তিথি ছুটে গেল রাহাদের কাছে । দেখল ,বেলকুনিতে বসে আছে নির্বিকার ভাবে । -রাহাদ? -তিথি , উঠে দাড়াল রাহাদ । দুজনেরই চোখ ভিজে গেছে । তারপর তিথি রাহাদকে জড়িয়ে ধরে এতদিনের সব জমানো কান্নাই যেন কাঁদতে লাগল , বলল , -পারলাম না রাহাদ । কান্নার মধ্যেও অনেকটা হাসি মুখ করে রাহাদ বলল , -জানতাম -তুই অনেক খারাপ । -কেন ? -এত কষ্ট দিস কেন আমাকে ? -আর তুই মনে হয় আমাকে অনেক সুখ দিস ? -হুম । কান্নার মাঝে হাসল তিথিও । ওর ওই কান্নাভরা হাসিতে কেমন যেন আরো বেশি মায়াময় লাগছিল......... . এভাবেই চলতে থাকল দুজনের অসম্ভব প্রেম অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে..... NB:আমার এই গল্পের সকল চরিত্র কাল্পনিক ও বাস্তবতার সাথে এর কন মিল নেই।


You may also like

No comments:

Apon+Tanjila. Powered by Blogger.

You can replace this text by going to "Layout" and then "Page Elements" section. Edit " About "